ঢাকা , সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নবীনগরে মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনে বাধা, গ্রামবাসীর ওপর বালু ব্যবসায়ীদের গুলি: আহত ১৫ মহান শহীদ ও ভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল  নবীনগরে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু নবীনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরেএক যুবক গুলিবিদ্ধ  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগরে বিএনপির আব্দুল মান্নান বিজয়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে হাতপাখার নীরব জোয়ার: ভোটের মাঠে ছক্কা হাঁকাতে পারেন নজরুল ইসলাম নজু  নির্বাচিত হলে ভূমিদস্যু, দখলদার, চাঁদাবাজ ও বালু সন্ত্রাসীদের সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করা হবে: আব্দুল মান্নান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগরে বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত  নবীনগরে বিএনপির ৮ জন নেতাকে বহিষ্কার নবীনগরে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মান্নানের  জনসভায় জনতার ঢল 
নোটিশ :
নিয়মিত সংবাদ পেতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন । startvbd20@gmail.com

নবীনগরে মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনে বাধা, গ্রামবাসীর ওপর বালু ব্যবসায়ীদের গুলি: আহত ১৫

মিঠু সূত্রধর পলাশ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধার মুখে পড়েন বালু উত্তোলনকারীরা। এসময় বালু উত্তোলনকারীদের ছররা গুলিতে ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হন। পরে পুলিশের ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন, উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামের বাসিন্দা মো.নুরুল মিয়া (৪০) জুলহাস মিয়া (৫০) সাকাল মিয়া (৪০) সামত মিয়া (৪০) ইব্রাহিম (৩০) জসু মিয়া (৪০) শরিফ (৩৮) রুপ মিয়া(৫০) সিয়াম(১৬) সহ ১০ -১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে নুরুলের পায়ে, মো. সাকাল মিয়া ও জসু মিয়ার পিঠের পেছনে ছররা গুলির আঘাত লেগেছে।

রবিবার (২২ ফ্রেব্রুয়ারী) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং সংলগ্ন মেঘনা নদীতে আট-দশটি ড্রেজার দিয়ে সামিউল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাখাওয়াত হোসেন পায়েল নাছিরাবাদ বালু মহলের সীমানা অতিক্রম করে চরলাপাং মৌজায় অবৈধভাবে নদীর তীরঘেষে দিনরাত ২৪ ঘন্টা বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয়রা বার-বার বাধা দিলেও তারা মানেননি। পরে রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় গ্রামবাসী শতাধিক মানুষ নিয়ে ওই ড্রেজারের কাছে গিয়ে বালু উত্তোলনে বাধা দেন। এতে ইজারাদার সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়। পরে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী অস্ত্রসহ এসে তাদের ওপর ছররা গুলি বর্ষণ করেন। এতে প্রায় ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হন।

পরে তারা আহতদের নিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ১০ জননের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী ও গুলি করা সন্ত্রাসীরা ইজারাদার সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের লোক। তার নির্দেশে এভাবে গুলি করা হয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ। এখানে নবীনগর উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের নেতাকর্মীও জড়িত রয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত ইজারাদার সাখাওয়াত হোসেন পায়েলকে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হাবিব রহমান জানান, দুপুর বারোটার দিকে ১২জন ছররা গুলিবিদ্ধ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।তাদের সকলকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে, উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগরের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এড: আব্দুল মান্নান বলেন, নবীনগরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মেনে নেয়া হবে না। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব বালু মহল বন্ধ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহামুদুল হাসান বলেন, বালু মহল নিয়ে আজকের জেলার মিটিংয়ে কথা বলেছি। দ্রুতই প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আমাদের সার্কেল স্যার সহ পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি আমরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীনগরে মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনে বাধা, গ্রামবাসীর ওপর বালু ব্যবসায়ীদের গুলি: আহত ১৫

নবীনগরে মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনে বাধা, গ্রামবাসীর ওপর বালু ব্যবসায়ীদের গুলি: আহত ১৫

আপডেট সময় ০২:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মিঠু সূত্রধর পলাশ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধার মুখে পড়েন বালু উত্তোলনকারীরা। এসময় বালু উত্তোলনকারীদের ছররা গুলিতে ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হন। পরে পুলিশের ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন, উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামের বাসিন্দা মো.নুরুল মিয়া (৪০) জুলহাস মিয়া (৫০) সাকাল মিয়া (৪০) সামত মিয়া (৪০) ইব্রাহিম (৩০) জসু মিয়া (৪০) শরিফ (৩৮) রুপ মিয়া(৫০) সিয়াম(১৬) সহ ১০ -১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে নুরুলের পায়ে, মো. সাকাল মিয়া ও জসু মিয়ার পিঠের পেছনে ছররা গুলির আঘাত লেগেছে।

রবিবার (২২ ফ্রেব্রুয়ারী) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং সংলগ্ন মেঘনা নদীতে আট-দশটি ড্রেজার দিয়ে সামিউল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাখাওয়াত হোসেন পায়েল নাছিরাবাদ বালু মহলের সীমানা অতিক্রম করে চরলাপাং মৌজায় অবৈধভাবে নদীর তীরঘেষে দিনরাত ২৪ ঘন্টা বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয়রা বার-বার বাধা দিলেও তারা মানেননি। পরে রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় গ্রামবাসী শতাধিক মানুষ নিয়ে ওই ড্রেজারের কাছে গিয়ে বালু উত্তোলনে বাধা দেন। এতে ইজারাদার সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়। পরে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী অস্ত্রসহ এসে তাদের ওপর ছররা গুলি বর্ষণ করেন। এতে প্রায় ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হন।

পরে তারা আহতদের নিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ১০ জননের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী ও গুলি করা সন্ত্রাসীরা ইজারাদার সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের লোক। তার নির্দেশে এভাবে গুলি করা হয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ। এখানে নবীনগর উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের নেতাকর্মীও জড়িত রয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত ইজারাদার সাখাওয়াত হোসেন পায়েলকে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হাবিব রহমান জানান, দুপুর বারোটার দিকে ১২জন ছররা গুলিবিদ্ধ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।তাদের সকলকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে, উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগরের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এড: আব্দুল মান্নান বলেন, নবীনগরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মেনে নেয়া হবে না। প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব বালু মহল বন্ধ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহামুদুল হাসান বলেন, বালু মহল নিয়ে আজকের জেলার মিটিংয়ে কথা বলেছি। দ্রুতই প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আমাদের সার্কেল স্যার সহ পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি আমরা।