
মিঠু সূত্রধর পলাশ: নির্বাচনী পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজের অফিস সহায়ক রাজীব হোসেনকে (খণ্ডকালীন) বরখাস্ত করা
পাশাপাশি অপর অভিযুক্ত কলেজের নৈশপ্রহরী (সরকারি কর্মচারী) শামীর মিয়ার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক এটি এম রেজাউল করিম।
গত সোমবার নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনাটি প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষ ওই দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ টি এম রেজাউল করিম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, নবীনগর সরকারি কলেজে আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষায় (টেস্ট) সম্প্রতি প্রায় সাড়ে চার শ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। কিন্তু অভিযোগ উঠে, নির্বাচনী পরীক্ষায় যেসব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাদের টেস্ট পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কলেজেরই একটি চক্র একাধিক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে কলেজের অফিস সহায়ক রাজীব হোসেন ও নৈশপ্রহরী শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এসব নগদ অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে এ ঘটনার সঙ্গে কলেজের উচ্চ পর্যায়ের আরো কেউ সহ প্রতি সাবজেক্টের শিক্ষক ও কলেজের প্রশাসনিক লোকজন জড়িত রয়েছে বলেও স্থানীয়ভাবে কানাঘুষা রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা জানতে কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রফেসর সাইদুল ইসলাম খানকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি দায়সারা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্তপূর্বক এ ঘটনার সত্যতা খুঁজে পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার কলেজ অধ্যক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এরপরই কলেজের অফিস সহায়ক রাজীব হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়।
বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত দুই কর্মচারী রাজীব হোসেন ও শামীম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনা জানা জানির পর থেকে তারা কলেজেও আসছেন না।
তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক সাইদুল ইসলাম খান বলেন, তদন্তের পর ঘটনার সত্যতা পেয়ে (মঙ্গলবার) অধ্যক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।
নবীনগর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ টি এম রেজাউল করিম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বিধায় কলেজের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনৈতিক অর্থ আদায়ের ঘটনা বছরের পর বছর ধরেই চলে আসছে। এই ন্যাকার জনক ঘটনায় নবীনগর সরকারি কলেজের সবাই জড়িত । ঘটনাটির তদন্তের ভার নিরপেক্ষ কাউকে দেওয়া উচিত। নয়তো ঘটনাটি শাকদিয়ে মাছ ডাকার মতো কিছু একটা হবে। তাই এ ঘটনার নিরেপক্ষ তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষর্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকির মধ্যে পরবে বলেও আশঙ্কা করেছেন এলাকাবাসী।
#####

মিঠু সূত্রধর পলাশ 








