ঢাকা , রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নবীনগরে ছাত্রের মায়ের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আটক নবীনগরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের ৩ সদস্য আহত, দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৫ নবীনগরের খাগাতুয়া গ্রামে তিন র‍্যাব সদস্য লাঞ্ছিত নবীনগরে ভাইয়ের আঘাতে ভাইয়ের মৃত্যু; হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছোট ভাই গ্রেফতার নিয়োমিত অফিস করেন না নবীনগর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা  নবীনগরে অটোরিকশা চালককে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা ঠিকাদারের হামলার শিকার প্রকৌশলী বদলি, ১৫ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি প্রধান আসামি নবীনগরে ধান মাড়াই মেশিনে শ্রমিকের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন  নবীনগরে জনবান্ধব তিন সিদ্ধান্তের প্রশংসায় ভাসছেন এমপি আব্দুল মান্নান   নৌকায় বসা নিয়ে সংঘর্ষ: নবীনগরে ঘুষির আঘাতে একজনের মৃত্যু
নোটিশ :
নিয়মিত সংবাদ পেতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন । startvbd20@gmail.com

নবীনগরে প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা ব্যবসা: নীরব প্রশাসন

মিঠু সূত্রধর পলাশ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের পৌর এলাকার সহ ২১টি ইউনিয়নে প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে।

উপজেলার গ্রাম থেকে গ্রামে ও পৌর এলাকা শুরু করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত কোথাও যেন আর নিরাপদ নয়। দিনের আলো কিংবা রাতের অন্ধকার, প্রকাশ্যে চলছে মাদক কেনাবেচা। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানায়, নবীনগর এখন মাদকের রাজধানীতে রূপ নিয়েছে। তাদের ভাষ্য মতে, প্রশাসন জানে, তবু কিছু করছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবীনগর পৌর এলাকার ভোলাচং ৯নং ওয়ার্ডের ঋষিপাড়া, ৭নং ওয়ার্ডের নারায়ণপুর, ৪ নং ওয়ার্ড সদর বাজার, ৩ নং ওয়ার্ডের মনতলি, করিমশাহ,উত্তর পাড়া,২ নং ওয়ার্ডের বালুর চর এলাকার আশপাশে প্রতিদিন চলছে ইয়াবা, গাজাঁ ও দেশিয় চোলাই মদ সহ নানা ধরনের মাদক বেচাকেনা।

পৌর এলাকার ভোলাচং ঋষি পাড়ায় তৈরি হয়েছে স্থায়ী ‘ডিলিং পয়েন্টথ, যেখানে প্রতিদিন জড়ো হয় মাদকসেবী ও কারবারিরা। এছাড়াও শিবপুর রাধিকা সড়ক মাদকের সবচাইতে বড় যোগাযোগ স্থল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সমাজের পিছিয়ে পরা হরিজন সম্প্রদায় ঋষি সম্প্রদায়ের লোকজনদের ব্যবহার করে দেশিয় চোলাই মদের অস্থায়ী কারখানা তৈরি করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মাদক কারবারিরা।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, মাদক সেবন করার সবচাইতে নিরাপদ জায়গা হলো ভোলাচং ঋষি পাড়া। এই ঋষি পাড়া দখলে রেখেছেন এলাকার মাদক কারবারিরা।
মাদক কারবারিরা এই ঋষি পাড়াতে বসে মাদক কারবারির পরিকল্পনা, টাকার ভাগ-বাটোয়ারা করেন।

এই চক্রটি এতটাই ভয়ংকর যে, প্রতিবাদকারীদের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়।

নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি বলেন, এলাকাটি মাদকের আগ্রাসনে জর্জরিত। চোখের সামনে তরুণ প্রজন্ম শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন চাইলে একদিনেই এই চক্র ভেঙে দিতে পারেন, কিন্তু তেমন সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না।

নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু মোছা বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজকে গ্রাস করছে। মাদক আগ্রাসনের কারণে এলাকায় দিনদুপুরে ছিনতাই ও চুরি বেড়ে গেছে।

নবীনগর মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কান্তি কুমার ভট্টাচার্য বলেন, এই এলাকার সামাজিক বন্ধন, নিরাপত্তা ও নৈতিকতা সব কিছুই ভেঙে পড়েছে। মাদকের ছোবলে শিশু-কিশোরেরাও ঝুঁকির মুখে। জরুরি ভিত্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের বিকল্প নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদিচ্ছাই দুর্বৃত্তদের হাত থেকে এলাকাটিকে রক্ষা করতে পারে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
(নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি চালু রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে কিছু তথ্য পেয়েছি। শিগগিরই অভিযান চালিয়ে চক্রটি গুড়িয়ে দেব। এছাড়াও আরো কোন তথ্য থাকলে আমাদের দিয়ে সহযোগিতা করার আহবান করছি। তথ্য দাতার নাম গোপন থাকবে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

নবীনগরে ছাত্রের মায়ের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আটক

নবীনগরে প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা ব্যবসা: নীরব প্রশাসন

আপডেট সময় ০৮:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

মিঠু সূত্রধর পলাশ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের পৌর এলাকার সহ ২১টি ইউনিয়নে প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে।

উপজেলার গ্রাম থেকে গ্রামে ও পৌর এলাকা শুরু করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত কোথাও যেন আর নিরাপদ নয়। দিনের আলো কিংবা রাতের অন্ধকার, প্রকাশ্যে চলছে মাদক কেনাবেচা। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানায়, নবীনগর এখন মাদকের রাজধানীতে রূপ নিয়েছে। তাদের ভাষ্য মতে, প্রশাসন জানে, তবু কিছু করছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নবীনগর পৌর এলাকার ভোলাচং ৯নং ওয়ার্ডের ঋষিপাড়া, ৭নং ওয়ার্ডের নারায়ণপুর, ৪ নং ওয়ার্ড সদর বাজার, ৩ নং ওয়ার্ডের মনতলি, করিমশাহ,উত্তর পাড়া,২ নং ওয়ার্ডের বালুর চর এলাকার আশপাশে প্রতিদিন চলছে ইয়াবা, গাজাঁ ও দেশিয় চোলাই মদ সহ নানা ধরনের মাদক বেচাকেনা।

পৌর এলাকার ভোলাচং ঋষি পাড়ায় তৈরি হয়েছে স্থায়ী ‘ডিলিং পয়েন্টথ, যেখানে প্রতিদিন জড়ো হয় মাদকসেবী ও কারবারিরা। এছাড়াও শিবপুর রাধিকা সড়ক মাদকের সবচাইতে বড় যোগাযোগ স্থল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সমাজের পিছিয়ে পরা হরিজন সম্প্রদায় ঋষি সম্প্রদায়ের লোকজনদের ব্যবহার করে দেশিয় চোলাই মদের অস্থায়ী কারখানা তৈরি করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মাদক কারবারিরা।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, মাদক সেবন করার সবচাইতে নিরাপদ জায়গা হলো ভোলাচং ঋষি পাড়া। এই ঋষি পাড়া দখলে রেখেছেন এলাকার মাদক কারবারিরা।
মাদক কারবারিরা এই ঋষি পাড়াতে বসে মাদক কারবারির পরিকল্পনা, টাকার ভাগ-বাটোয়ারা করেন।

এই চক্রটি এতটাই ভয়ংকর যে, প্রতিবাদকারীদের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়।

নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি বলেন, এলাকাটি মাদকের আগ্রাসনে জর্জরিত। চোখের সামনে তরুণ প্রজন্ম শেষ হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন চাইলে একদিনেই এই চক্র ভেঙে দিতে পারেন, কিন্তু তেমন সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না।

নবীনগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু মোছা বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজকে গ্রাস করছে। মাদক আগ্রাসনের কারণে এলাকায় দিনদুপুরে ছিনতাই ও চুরি বেড়ে গেছে।

নবীনগর মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কান্তি কুমার ভট্টাচার্য বলেন, এই এলাকার সামাজিক বন্ধন, নিরাপত্তা ও নৈতিকতা সব কিছুই ভেঙে পড়েছে। মাদকের ছোবলে শিশু-কিশোরেরাও ঝুঁকির মুখে। জরুরি ভিত্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের বিকল্প নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদিচ্ছাই দুর্বৃত্তদের হাত থেকে এলাকাটিকে রক্ষা করতে পারে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
(নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি চালু রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে কিছু তথ্য পেয়েছি। শিগগিরই অভিযান চালিয়ে চক্রটি গুড়িয়ে দেব। এছাড়াও আরো কোন তথ্য থাকলে আমাদের দিয়ে সহযোগিতা করার আহবান করছি। তথ্য দাতার নাম গোপন থাকবে।