ঢাকা , রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নবীনগরে ছাত্রের মায়ের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আটক নবীনগরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাবের ৩ সদস্য আহত, দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৫ নবীনগরের খাগাতুয়া গ্রামে তিন র‍্যাব সদস্য লাঞ্ছিত নবীনগরে ভাইয়ের আঘাতে ভাইয়ের মৃত্যু; হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছোট ভাই গ্রেফতার নিয়োমিত অফিস করেন না নবীনগর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা  নবীনগরে অটোরিকশা চালককে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা ঠিকাদারের হামলার শিকার প্রকৌশলী বদলি, ১৫ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি প্রধান আসামি নবীনগরে ধান মাড়াই মেশিনে শ্রমিকের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন  নবীনগরে জনবান্ধব তিন সিদ্ধান্তের প্রশংসায় ভাসছেন এমপি আব্দুল মান্নান   নৌকায় বসা নিয়ে সংঘর্ষ: নবীনগরে ঘুষির আঘাতে একজনের মৃত্যু
নোটিশ :
নিয়মিত সংবাদ পেতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন । startvbd20@gmail.com

চুরি করতে যাচ্ছি, অসুবিধা হলে সহযোগিতা করবেন- পুলিশকে চোরের অনুরোধ

মিঠু সূত্রধর পলাশ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গরু চুরির ঘটনায় আটক এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ ও আপত্তিকর কথোপকথনের অভিযোগে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত এএসআই মোহাম্মদ মাসুদকে বরখাস্ত করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়নের দশানি গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার একটি গরু চুরি হয়। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে পাশের বাঁশগাড়ি গ্রামে সন্দেহভাজন আলাল মিয়ার বাড়ি থেকে গরুটি উদ্ধার করেন। এলাকাবাসীর দাবি, সে সময় আলাল মিয়া চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আলাল মূলত উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাঁশগাড়িতে বসবাস করেন।

আলাল মিয়াকে আটক করার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেন স্থানীয়রা। সেই ফোনে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার এএসআই মোহাম্মদ মাসুদের সঙ্গে আলালের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। ইমোতে ভয়েস মেসেজ, চ্যাট ও কলের আলামত দেখে উপস্থিত জনতা হতবাক হয়ে যান। একটি ভয়েস রেকর্ডে আলালকে বলতে শোনা যায়, ‘চুরি করতে যাচ্ছি, অসুবিধা হলে সহযোগিতা করবেন।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলাল মিয়া আগে থেকেই মাদক চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত এবং সেই সূত্রেই এএসআই মাসুদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এমনকি সর্বশেষ এই চুরির সময়ও তিনি ওই পুলিশ সদস্যের ‘ব্যাকআপ’ চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই মোহাম্মদ মাসুদ। তিনি দাবি করেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি তাকে (আলাল) না চিনেই ইমোতে কথা বলেছি, এর বাইরে কিছু জানি না।’

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, গরু চুরির ঘটনায় আলাল মিয়াকে আটক করা হয়েছে এবং পুলিশের ওই সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার আবদুর রউফ জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এএসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে পরবর্তী স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

নবীনগরে ছাত্রের মায়ের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আটক

চুরি করতে যাচ্ছি, অসুবিধা হলে সহযোগিতা করবেন- পুলিশকে চোরের অনুরোধ

আপডেট সময় ০৭:০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মিঠু সূত্রধর পলাশ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গরু চুরির ঘটনায় আটক এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ ও আপত্তিকর কথোপকথনের অভিযোগে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত এএসআই মোহাম্মদ মাসুদকে বরখাস্ত করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়নের দশানি গ্রামের বাসিন্দা মানিক মিয়ার একটি গরু চুরি হয়। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে পাশের বাঁশগাড়ি গ্রামে সন্দেহভাজন আলাল মিয়ার বাড়ি থেকে গরুটি উদ্ধার করেন। এলাকাবাসীর দাবি, সে সময় আলাল মিয়া চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আলাল মূলত উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাঁশগাড়িতে বসবাস করেন।

আলাল মিয়াকে আটক করার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেন স্থানীয়রা। সেই ফোনে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার এএসআই মোহাম্মদ মাসুদের সঙ্গে আলালের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। ইমোতে ভয়েস মেসেজ, চ্যাট ও কলের আলামত দেখে উপস্থিত জনতা হতবাক হয়ে যান। একটি ভয়েস রেকর্ডে আলালকে বলতে শোনা যায়, ‘চুরি করতে যাচ্ছি, অসুবিধা হলে সহযোগিতা করবেন।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, আলাল মিয়া আগে থেকেই মাদক চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত এবং সেই সূত্রেই এএসআই মাসুদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এমনকি সর্বশেষ এই চুরির সময়ও তিনি ওই পুলিশ সদস্যের ‘ব্যাকআপ’ চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই মোহাম্মদ মাসুদ। তিনি দাবি করেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি তাকে (আলাল) না চিনেই ইমোতে কথা বলেছি, এর বাইরে কিছু জানি না।’

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, গরু চুরির ঘটনায় আলাল মিয়াকে আটক করা হয়েছে এবং পুলিশের ওই সদস্যের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার আবদুর রউফ জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এএসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে পরবর্তী স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।