ঢাকা , শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নবীনগরে প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটনাটির অবশেষে ১১ লাখ টাকায় মীমাংসা!!  নবীনগরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলার’ প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ  নবীনগরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু: হাসপাতালে ভাঙচুর নবীনগরের উরখলিয়া গ্রামে শান্তির লক্ষ্যে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত নবীনগর সরকারি কলেজ: পরীক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেয়ার প্রলোভনে টাকা নেয়ার অভিযোগে দু’জন বরখাস্ত নবীনগর ভূমি অফিস তালাবদ্ধ : সেবা বঞ্চিত সাধারণ মানুষ  নবীনগরে লাল মিয়া মাষ্টারের পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার হুমকি, বাড়িতে হামলা,আহত-৩ চুরি করতে যাচ্ছি, অসুবিধা হলে সহযোগিতা করবেন- পুলিশকে চোরের অনুরোধ ‎নবীনগর প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংসদ এডভোকেট আব্দুল মান্নানের ঈদত্তোর শুভেচ্ছা বিনিময় পাগলিটা মা হয়েছে, কিন্তু বাবা হয়নি কেউ
নোটিশ :
নিয়মিত সংবাদ পেতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন । startvbd20@gmail.com

নবীনগরে প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটনাটির অবশেষে ১১ লাখ টাকায় মীমাংসা!! 

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:২০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে
মিঠু সূত্রধর পলাশ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক প্রসূতির মৃত্যু ঘটনাটির অবশেষে মীমাংসা হয়েছে।
সামাজিক বিচার শালিসীর মাধ্যমে  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রসূতির ওই মৃত্যুর জন্য ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
গতকাল বুধবার (০৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলা সদরের সৈনিক হোটেলে উভয় পক্ষের লোকজন ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রসূতির মৃত্যু ঘটনাটির নিষ্পত্তি হল।
ওই বিচার শালিসী সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর এলাকার আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা, শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খবির উদ্দিন।
এ বিষয়ে খবির উদ্দিন মাস্টার এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে জানান, ‘শালিসী সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ক্রমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রসূতির ওই মৃত্যুর জন্য ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এরমধ্যে ৮ লাখ টাকা ওই মৃত প্রসূতির নবজাতক পুত্র সন্তানের নামে ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ করা হবে। বাকী ৩ লাখ টাকা প্রসূতির স্বামী ও বাবার বাড়ির লোকজনকে  সমান দেড় লাখ করে বুঝিযে দেয়া হবে।
তবে প্রসূতির স্বামীর বাড়ির লোকজন জরিমানার দেড় লাখ টাকা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলেও তিনি জানান।
তিনি (খবির উদ্দিন) আরও জানান, শালিসী সভার এই রায়ের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ২ লাখ টাকা প্রদান করেন। বাকী ৯ লাখ টাকা  আগামি এক মাসের মধ্যে ভুক্তভোগীদের কাছে জমা করবেন।’
খবির উদ্দিন দৃঢ়তার সাথে বলেন,’শালিশী সভায় আগত জুরিবোর্ড সদস্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে জরিমানার এই ১১ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের হাতে যথাসময়ে তুলে দেয়া হবে। এতে কোন ধরণের নয়ছয় করা যাবেনা।
তবে প্রসূতির মৃত্যুর পর স্বজনদের ব্যাপক হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া হাসপাতালটির মেরামত ও সংস্কার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই  নিজ দায়িত্বে করে নিতে হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়।
পাশাপাশি, এই বিচার মীমাংসার পর কোন পক্ষই আর এ নিয়ে মামলা মোকদ্দমা করতে পারবেনা বলেও শালিসী সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে তিনি জানান।
তবে এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম আজ দুপুরে বলেন,’শালিশী সভার কথা আমার জানা নেই। তবে একজন প্রসূতির মৃত্যুর  ৫-দিন পরও এ বিষয়ে এখনও কেউ থানায় মামলা করেনি, এটি আমার কাছে আশ্চর্যজনক লাগছে।’
তবে ওসি জানান,’প্রসূতির মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তেমন কিছু পাওয়া গেলে, পুলিশ অবশ্যই নিজে বাদী হয়ে মামলা করবে।’
এদিকে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জনের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি আজ বৃহস্পতিবার দিনভর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে গেছেন।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া আজ দুপুরে বলেন,’বিচার শালিসীতে কি হয়েছে, সেসব আমাদের জানার বিষয় না। গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রসূতি মৃত্যুর সাথে কর্তব্যরত ডাক্তার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি পাওযা গেলে, অবশ্যই প্রযোজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেযা হবে।’
এদিকে হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে এ নিয়ে কথা বলা যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার  লাউর ফতেপুর গ্রামের সফিকুল ইসলামের অন্ত:স্বত্তা স্ত্রী রাকিবা আক্তার (২০) উপজেলা সদরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে প্রসব ব্যাথা নিয়ে ভর্তি হন। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্বাবধানে ওই প্রসূতির রাতেই অস্ত্রোপচার (সিজার) হয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠে, অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি রাকিবা আক্তার পুত্র সন্তান জন্ম দিয়ে হাসপাতালেই মারা যান।
এ ঘটনায় প্রসূতির বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা পরদিন রবিবার সকালে হাসপাতালটিতে ব্যাপক হামলা ও ভাংচুর চালায়।
#####
ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

নবীনগরে প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটনাটির অবশেষে ১১ লাখ টাকায় মীমাংসা!! 

নবীনগরে প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটনাটির অবশেষে ১১ লাখ টাকায় মীমাংসা!! 

আপডেট সময় ০৭:২০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
মিঠু সূত্রধর পলাশ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরে আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক প্রসূতির মৃত্যু ঘটনাটির অবশেষে মীমাংসা হয়েছে।
সামাজিক বিচার শালিসীর মাধ্যমে  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রসূতির ওই মৃত্যুর জন্য ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
গতকাল বুধবার (০৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলা সদরের সৈনিক হোটেলে উভয় পক্ষের লোকজন ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রসূতির মৃত্যু ঘটনাটির নিষ্পত্তি হল।
ওই বিচার শালিসী সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর এলাকার আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা, শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খবির উদ্দিন।
এ বিষয়ে খবির উদ্দিন মাস্টার এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে জানান, ‘শালিসী সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ক্রমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রসূতির ওই মৃত্যুর জন্য ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এরমধ্যে ৮ লাখ টাকা ওই মৃত প্রসূতির নবজাতক পুত্র সন্তানের নামে ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ করা হবে। বাকী ৩ লাখ টাকা প্রসূতির স্বামী ও বাবার বাড়ির লোকজনকে  সমান দেড় লাখ করে বুঝিযে দেয়া হবে।
তবে প্রসূতির স্বামীর বাড়ির লোকজন জরিমানার দেড় লাখ টাকা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলেও তিনি জানান।
তিনি (খবির উদ্দিন) আরও জানান, শালিসী সভার এই রায়ের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ২ লাখ টাকা প্রদান করেন। বাকী ৯ লাখ টাকা  আগামি এক মাসের মধ্যে ভুক্তভোগীদের কাছে জমা করবেন।’
খবির উদ্দিন দৃঢ়তার সাথে বলেন,’শালিশী সভায় আগত জুরিবোর্ড সদস্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে জরিমানার এই ১১ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের হাতে যথাসময়ে তুলে দেয়া হবে। এতে কোন ধরণের নয়ছয় করা যাবেনা।
তবে প্রসূতির মৃত্যুর পর স্বজনদের ব্যাপক হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া হাসপাতালটির মেরামত ও সংস্কার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই  নিজ দায়িত্বে করে নিতে হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত হয়।
পাশাপাশি, এই বিচার মীমাংসার পর কোন পক্ষই আর এ নিয়ে মামলা মোকদ্দমা করতে পারবেনা বলেও শালিসী সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে তিনি জানান।
তবে এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম আজ দুপুরে বলেন,’শালিশী সভার কথা আমার জানা নেই। তবে একজন প্রসূতির মৃত্যুর  ৫-দিন পরও এ বিষয়ে এখনও কেউ থানায় মামলা করেনি, এটি আমার কাছে আশ্চর্যজনক লাগছে।’
তবে ওসি জানান,’প্রসূতির মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তেমন কিছু পাওয়া গেলে, পুলিশ অবশ্যই নিজে বাদী হয়ে মামলা করবে।’
এদিকে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জনের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি আজ বৃহস্পতিবার দিনভর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে গেছেন।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া আজ দুপুরে বলেন,’বিচার শালিসীতে কি হয়েছে, সেসব আমাদের জানার বিষয় না। গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রসূতি মৃত্যুর সাথে কর্তব্যরত ডাক্তার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি পাওযা গেলে, অবশ্যই প্রযোজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেযা হবে।’
এদিকে হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে এ নিয়ে কথা বলা যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার  লাউর ফতেপুর গ্রামের সফিকুল ইসলামের অন্ত:স্বত্তা স্ত্রী রাকিবা আক্তার (২০) উপজেলা সদরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে প্রসব ব্যাথা নিয়ে ভর্তি হন। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সৈয়দ কামরুজ্জামানের তত্বাবধানে ওই প্রসূতির রাতেই অস্ত্রোপচার (সিজার) হয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠে, অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি রাকিবা আক্তার পুত্র সন্তান জন্ম দিয়ে হাসপাতালেই মারা যান।
এ ঘটনায় প্রসূতির বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা পরদিন রবিবার সকালে হাসপাতালটিতে ব্যাপক হামলা ও ভাংচুর চালায়।
#####