ঢাকা , রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নবীনগরের নির্বাচন: দ্বিমুখী না বহুমুখী—জনমনে বাড়ছে কৌতূহল সাংবাদিক পর্যবেক্ষক কার্ড দায়িত্ব ও বিশ্বাসের প্রতীক অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৫ লাখ টাকা জরিমানা নবীনগরে নির্বাচন ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসনে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস নবীনগর উপজেলা যুবদলের সকল কমিটি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত নবীনগরে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা ফেরত চেয়ে এসিল্যান্ডের কাছে আবেদন বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য: বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে ধানের শীষের কাণ্ডারি এড. আব্দুল মান্নান: এলাকায় আনন্দের জোয়ার বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী নাজমুল হোসেনের নির্বাচনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
নোটিশ :
নিয়মিত সংবাদ পেতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন । startvbd20@gmail.com

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসনে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস

মিঠু সূত্রধর পলাশ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর)২৪৭ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ এখন পুরোপুরি জমে উঠেছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও ইসলামিক দল গুলির মধ্যে।
তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াতের ১০ দলীয় জোটের বিপরীতে ইসলামী আন্দোলনের শক্ত অবস্থান নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। স্থানীয়রা এখানে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাচ্ছেন।
নবীনগরে এক সময় বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। মরহুম কাজী মো: আনোয়ার হোসেন এখান থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০১৭ সালে তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই স্থানীয় বিএনপি কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
এবার দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড.আব্দুল মান্নান। কিন্তু পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন জেলা বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত সাবেক অর্থনীতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম কাজী মো: আনোয়ার হোসেনের পুত্র কাজী নাজমুল হোসেন তাপস।
হাইকমান্ডের নির্দেশ উপেক্ষা করে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতিকে মাঠে অনড় রয়েছেন। এতে বিএনপির ভোট ব্যাংক ভাগ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনি জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফীর রিকশা প্রতিকে নির্বাচন করছেন।
মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফীর ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ ও জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জামায়াতের ১০ দলীয় জোট। বিএনপির দুই প্রার্থীর লড়াইয়ের সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আসনটি নিজেদের করতে চায় তারা।
জোটের বাইরে থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ধনাঢ্য ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম নজু বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জনসংযোগে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন, যা মূলত ১০ দলীয় জোটে ভোট ব্যাংকে ভাগ বসাতে পারে।
এছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকে নির্বাচন করছেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত কাস্তে প্রতীকে মো: শাহিন খান, গণসংহতি আন্দোলন মাথাল প্রতিকে নাহিদা জাহান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতিকে মোহাম্মদ আশরাফুর হকও প্রচারণায় রয়েছেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৎ ও বিনয়ী হিসেবে পরিচিত এড.আব্দুল মান্নান  বলেন, ” আমি বিজয়ী হলে নবীনগর কে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ব।”
১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফী বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে পরীক্ষিত সেবক। ইনশাআল্লাহ, নবীনগরের মানুষ এবার আমাকে বেছে নেবে।”
সদ্য বহিস্কৃত সাবেক বিএনপির অর্থনীতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস
 বলেন, “দল মূল্যায়ন না করলেও নবীনগরের  মানুষ আমাকে মূল্যায়ন করবে। আমি সংসদে  অবহেলিত নবীনগরের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরব।”
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু বলেন, “এলাকার মানুষ উন্নয়নবঞ্চিত।
নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাস দূরীকরণের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে করব।
ব্রাহ্মনবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৭৪ হাজার ৮২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ২৬ হাজার ৭৩৬ জন, নারী ভোটার দুই লাখ সাত হাজার ৮৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) চারজন।
মোট কেন্দ্র সংখ্যা ১৫৪ টি, এসব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯৯টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহামুদুল হাসান বলেন, নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত নবীনগরের মানুষ কার হাতে তাদের ভাগ্য সঁপে দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীনগরের নির্বাচন: দ্বিমুখী না বহুমুখী—জনমনে বাড়ছে কৌতূহল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসনে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস

আপডেট সময় ০৮:২২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
মিঠু সূত্রধর পলাশ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর)২৪৭ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠ এখন পুরোপুরি জমে উঠেছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও ইসলামিক দল গুলির মধ্যে।
তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াতের ১০ দলীয় জোটের বিপরীতে ইসলামী আন্দোলনের শক্ত অবস্থান নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। স্থানীয়রা এখানে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাচ্ছেন।
নবীনগরে এক সময় বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। মরহুম কাজী মো: আনোয়ার হোসেন এখান থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০১৭ সালে তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই স্থানীয় বিএনপি কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
এবার দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড.আব্দুল মান্নান। কিন্তু পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন জেলা বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত সাবেক অর্থনীতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম কাজী মো: আনোয়ার হোসেনের পুত্র কাজী নাজমুল হোসেন তাপস।
হাইকমান্ডের নির্দেশ উপেক্ষা করে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতিকে মাঠে অনড় রয়েছেন। এতে বিএনপির ভোট ব্যাংক ভাগ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনি জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফীর রিকশা প্রতিকে নির্বাচন করছেন।
মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফীর ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ ও জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জামায়াতের ১০ দলীয় জোট। বিএনপির দুই প্রার্থীর লড়াইয়ের সুযোগটি কাজে লাগিয়ে আসনটি নিজেদের করতে চায় তারা।
জোটের বাইরে থাকা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ধনাঢ্য ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম নজু বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জনসংযোগে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন, যা মূলত ১০ দলীয় জোটে ভোট ব্যাংকে ভাগ বসাতে পারে।
এছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতিকে নির্বাচন করছেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত কাস্তে প্রতীকে মো: শাহিন খান, গণসংহতি আন্দোলন মাথাল প্রতিকে নাহিদা জাহান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে আপেল প্রতিকে মোহাম্মদ আশরাফুর হকও প্রচারণায় রয়েছেন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৎ ও বিনয়ী হিসেবে পরিচিত এড.আব্দুল মান্নান  বলেন, ” আমি বিজয়ী হলে নবীনগর কে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ব।”
১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফী বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে পরীক্ষিত সেবক। ইনশাআল্লাহ, নবীনগরের মানুষ এবার আমাকে বেছে নেবে।”
সদ্য বহিস্কৃত সাবেক বিএনপির অর্থনীতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস
 বলেন, “দল মূল্যায়ন না করলেও নবীনগরের  মানুষ আমাকে মূল্যায়ন করবে। আমি সংসদে  অবহেলিত নবীনগরের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরব।”
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু বলেন, “এলাকার মানুষ উন্নয়নবঞ্চিত।
নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাস দূরীকরণের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে করব।
ব্রাহ্মনবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৭৪ হাজার ৮২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ২৬ হাজার ৭৩৬ জন, নারী ভোটার দুই লাখ সাত হাজার ৮৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) চারজন।
মোট কেন্দ্র সংখ্যা ১৫৪ টি, এসব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯৯টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহামুদুল হাসান বলেন, নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত নবীনগরের মানুষ কার হাতে তাদের ভাগ্য সঁপে দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।