প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১২, ২০২৬, ১১:৩৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১২, ২০২৬, ৭:০২ পি.এম
নবীনগরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের ৩ সদস্য আহত, দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৫

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুখ্যাত সন্ত্রাসী সফিক বাহিনীর হামলায় র্যাবের তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
হামলার পর আহত সদস্যদের প্রায় চার ঘণ্টা একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় দেশীয় অস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামের বলিয়ারা পাড়ায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— হাবিলদার এ কে এম রাশেদ মোশারফ (বিজিবি), কনস্টেবল মো. কাজল মিয়া ও কনস্টেবল মো. আব্দুল মালেক।
র্যাব সূত্র জানায়, বাঞ্ছারামপুরের দুর্গারামপুর সেতুর পূর্ব পাশে তথ্য সংগ্রহ অভিযানে যাওয়ার পথে র্যাবের চার সদস্য খাগাতুয়া-মাজিয়ারা সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন।
খাগাতুয়া এলাকায় পৌঁছালে কুখ্যাত সন্ত্রাসী সফিক ডাকাত ওরফে চোরা সফিক এবং তার সহযোগীরা তাদের পথরোধ করে। পরিচয় দেওয়ার পরও র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
হামলার একপর্যায়ে সার্জেন্ট ফারুক কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে গেলেও অপর তিন সদস্যকে আটক করে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাদের একটি বাড়িতে নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। হামলায় একজন সদস্যের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে বলেও জানিয়েছে র্যাব।
ঘটনার খবর পেয়ে র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অবরুদ্ধ তিন সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। আহতদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আভিযানিক দল খাগাতুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সফিক বাহিনীর অন্যতম সহযোগী আব্দুল কাদেরসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— আব্দুল কাদের (৬২), মো. রাহিম (২০), আব্দুর রহমান অপু (১৮), নূর আলম (১৬) ও ছানোয়ারা (৪৮)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি রামদা, একটি চাকু ও দুটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৯ সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নূর নবী স্টার টিভিকে জানান, চোরা সফিক ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, ডাকাতি, হামলা ও ভাঙচুরসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অতীতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে ওইদিন সফিক, সাদ্দাম ও আলমের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল স্থানীয় মুকুল মাস্টারের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায়। ফেরার পথে একটি সিএনজিতে থাকা চারজনকে সন্দেহ করে তারা হামলা চালায়। পরে র্যাব পরিচয় দেওয়ার পরও তাদের “ভুয়া র্যাব” দাবি করে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগী মুকুল মাস্টার ও তার ভাগিনা পারভেজ অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চোরা সফিক এলাকায় সন্ত্রাস, ভয়ভীতি, হামলা ও লুটপাট চালিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। তার ভয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
#####
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©২০২৩-২০২৫ স্টার টিভি