মিঠু সূত্রধর পলাশ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজারে একটি দোকান নির্মাণকে ঘিরে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে ঘটে যায় নাটকীয় ও রক্তক্ষয়ী ঘটনা। আওয়ামী লীগ সমর্থক এক ইউপি চেয়ারম্যানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ মুহূর্তেই রূপ নেয় ভয়াবহ সহিংসতায়, যার একপর্যায়ে ‘মব’ হামলার শিকার হন চেয়ারম্যানসহ তার স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে জিনোদপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল্লাহ রবি তার ভাই যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বাজারের সরকারি জায়গায় একটি দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ সময় বাঙ্গরা বাজার কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শামীম মিয়া এবং সেক্রেটারি মিজানুর রহমান মজনুসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এতে বাধা দেন।
বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক, যা অল্প সময়েই ভয়ংকর সংঘর্ষে রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো বাজার এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। পরে যুবদল নেতা কাউছার আহমেদ ও তার সমর্থকরাও সংঘর্ষে যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে চেয়ারম্যান রবিউল্লাহ রবি, তার ভাই শফিকুল ইসলামসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতরভাবে জখম হন যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম, যিনি প্রতিপক্ষের হামলায় রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নেয়—স্থানীয়দের একাংশ উত্তেজিত হয়ে চেয়ারম্যান ও তার স্বজনদের ঘিরে ‘মব’ তৈরি করে। অভিযোগ রয়েছে, তাদেরকে সেখানে আটক করে মারধর এমনকি হত্যার চেষ্টাও করা হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় চেয়ারম্যান রবিউল্লাহ রবি, তার ছোট ভাই রুবেল মিয়া ও মামাতো ভাই পলাশ মিয়াকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় এখানেই—উদ্ধারের পরপরই তাদেরকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ বিষয়ে আটক চেয়ারম্যান রবিউল্লাহ রবি বলেন,
“সময়মতো পুলিশ না এলে আমরা হয়তো প্রাণে বাঁচতাম না। প্রতিপক্ষের হামলায় আমরা মৃত্যুর মুখে পড়েছিলাম। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্যদিকে প্রতিপক্ষের যুবদল নেতা কাউছার আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“এখানে কোনো ‘মব’ তৈরি হয়নি। সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে দোকান তুলতে গেলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা বাধা দেয়। উল্টো চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে শফিক আগ্নেয়াস্ত্র বের করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।”
নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম স্টার টিভিকে জানান,
“ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়, পরে মামলার প্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এ ঘটনাকে ঘিরে নবীনগরের বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। সরকারি জায়গা দখল, রাজনৈতিক প্রভাব ও ‘মব’ সহিংসতা—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে আইনের শাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে।