নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার খাগাতুয়া গ্রামে তিন র্যাব সদস্যকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত সদস্যদের নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে খাগাতুয়া গ্রামের শফিক, সাদ্দাম ও আলমের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল স্থানীয় মুকুল মাস্টারের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ফেরার পথে তারা র্যাবের চার সদস্যকে রাস্তার মধ্যে আটক করে।
আটক হওয়া র্যাব সদস্যরা হলেন— সার্জেন্ট ফারুক, হাবিলদার রাশেদ, কনস্টেবল মালেক ও কনস্টেবল কাজল। তাদের মধ্যে সার্জেন্ট ফারুক ছাড়া বাকি তিনজনকে মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ঘটনাস্থলে একটি ভিডিও ধারণ করা হয়।
ভুক্তভোগী র্যাব সদস্যদের দাবি, তারা অফিসিয়াল কাজে বাঞ্ছারামপুরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শফিকের নেতৃত্বাধীন দল তাদের গতিরোধ করে লাঞ্ছিত ও মারধর করে। পরে হামলাকারীরা তাদের জোরপূর্বক একটি স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও দিতে বাধ্য করে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই আহত র্যাব সদস্যরা সেখান থেকে মুক্ত হয়ে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। আহতদের একজন জানান, তার মাথায় তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে।
চুলের স্টাইল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে র্যাব সদস্যরা জানান, “আমরা সিভিলে কাজ করি, যেন সহজে আমাদের চিনতে না পারে।”
এদিকে ভুক্তভোগী মুকুল মাস্টার ও তার ভাগিনা পারভেজ অভিযোগ করে বলেন, শফিক বাহিনী তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর করেছে এবং ঘরের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে র্যাব-৯ এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নুরুন্নবী বলেন, “র্যাব গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত চার সদস্য অফিসিয়াল কাজে বাঞ্ছারামপুর যাওয়ার পথে তাদের আটক করে লাঞ্ছিত করা হয়। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এদিকে এই তিন র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদ দাবির অভিযোগও পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, তাদের চলাফেরা ও আচার আচার-আচরণ সন্দেহজনক ছিলো। সে কারনেই তারা হামলার শিকার হয়েছে।