চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার সাধারণ মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্ত্রী অসুস্থ থাকায় ছুটি যাওয়ায় গত রবিবার থেকে অফিস করছেন না নবীনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভৌমিক।
গত সোমবার বেলা সাড়ে ১২ টায় নবীনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে কথা হয় সেবাপ্রার্থী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে। তাদের একজন নবীনগর উপজেলার শেষপ্রান্ত রতনপু ইউনিয়নের ভিটিবিসারা গ্রামের প্রবাসী মো. লিটন মিয়া।
তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ড করতে পারেননি। তিনি ভোটার নিবন্ধন ফরম জমা দিতে এসে ‘স্যার অফিসে নেই। অফিসে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তিনি নিশ্চিত হন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা না আসা পর্যন্ত জমা দেয়া সম্ভব নয়।
আশ্রাফুল নামে রছুল্লাবাদ গ্রামে এক যুবক এনআইডি সংশোধনের জন্য এসে ফিরে যান।
উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের মফিজ মিয়া বলেন, আমার নিকটতম প্রবাসী আত্মীয়ের নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য নির্বাচন অফিসে গেলে সকল ডকুমেন্ট প্রদান করার পরও হয়রানি করছে। এ পর্যন্ত দুইবার এসেও কাজ হয়নি। আবারও রোববার আসতে বলছে।
মো.নাঈম নামে এক তরুণ জানান, একটি অক্ষর ‘এনআইডি সংশোধনের জন্য উপজেলার কাইতলা ইউনিয়ন থেকে এ পর্যন্ত তিনবার এসে ফিরে যেতে হয়েছে। আরেকজন সেবা প্রার্থী বলেন, ভোটার হওয়ার জন্য ছবি তুলেছি তিন মাস হলো,এখনো এনআইডি নাম্বার পাচ্ছি না। এটি এক ধরনের হয়রানি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু তারা নয়, সেবা না পেয়ে প্রতিদিন উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার শত শত মানুষ। ছুটিতে থাকা ওই কর্মকর্তাকে কবে থেকে পাওয়া যাবে তাও অনিশ্চিত। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে নবীনগর উপজেলার সহকারি নির্বাচন অফিসের দায়িত্বে থাকা সুমন ভূইয়া বলেন, স্যারের স্ত্রী অসুস্থ থাকায়, তিনি ছুটিতে আছেন। গত রবিবার থেকে তিনি অফিসে আসছেন না। কখন আসবেন তার নির্ধারিত তারিখ জানাতে না পারলেও ঈদের পর যোগদান করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
নবীনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বক্তব্য নেয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
এ প্রসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহনিয়াজ্জামান তালুকদার বলেন, উনার স্ত্রী গুরুত্বর অসুস্থ থাকায়, চিকিৎসার জন্য তিনি ছুটিতে আছেন। জন- সাধারণের সেবা পাওয়ার বিষয়টি আমি দেখছি।