সুত্র জানায়, শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে বড়িকান্দি গনিশাহ মাজার সংলগ্ন একটি রেস্তোরাঁয় আকস্মিক হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন চারজন।
এর মধ্যে ঢাকায় নেয়ার পথে শিপন মিয়া (৩০)নামে একজন মারা যান। তিনি উপজেলার নূরজাহানপুর এলাকার কুখ্যাত মনেক ডাকাতের ছেলে।
এ ঘটনার পর গতকাল দিনব্যাপী পর্যন্ত পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফের হামলা, ভাঙচুর ও গুলাগুলির আতঙ্ক দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাত থেকেই পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্যরা এলাকায় টহল দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখে।
নবীনগর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক জানায়, উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের গণি শাহ মাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও গুলিবর্ষণে চারজন গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধদের সবাইকে রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়। এদের মধ্যে গতকাল ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শিপন মিয়া। আহত ইয়াছিন (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল দিবাগত রাতের শেষদিকে সেও মারা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে গণিশাহ মাজার বাজারের একটি হোটেলে শিপন মিয়া আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হঠাৎ হোটেলে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে শিপনসহ হোটেল কর্মচারী ইয়াছিন (২০) ও নূর আলম (১৮) গুলিবিদ্ধ হন।
গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
অপরদিকে শিপনের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে তার অনুসারীরা প্রতিপক্ষের এলাকায় পাল্টা হামলা চালায়। তারা গণিশাহ মাজার সংলগ্ন তালতলায় স্থানীয় শিক্ষক এমরান হোসেন মাস্টারের অফিসে গুলি চালায়। এতে এমরান (৩৮) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ঢাকায় কর্মরত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই ও শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
এর পর উত্তেজিত জনতা প্রতিপক্ষ থোল্লাকান্দি গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। পুরো এলাকায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভয় ও আতঙ্ক।
খবর পেয়ে নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক এবং থানার ওসি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওসি শাহিনুর ইসলাম বলেন, গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের জের।